ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ছাত্রলীগের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলন জনগণের বিপ্লবের রূপ নেয়, যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং রাস্তায় নেতৃত্বের জন্য বিখ্যাত হয়। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু দেশের যুবশক্তির জন্য বড় ধাক্কা।
১২ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে অজ্ঞাতকুলতার গুলিতে হাদির মাথায় আঘাত লাগে। মস্তিষ্কের স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দুই সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে এবং ২০ জনের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ফেসবুক পোস্টের কারণে এই হামলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ২০ ডিসেম্বর শনিবার রাষ্ট্রীয় শোকাবহ দিবস ঘোষণা করেছেন। সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে, সরকারি কর্মকর্তাদের তিন দিন ছুটি। শুক্রবার সারাদেশের মসজিদে জানাজার দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন হবে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শোকসভা, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে শোক সম্মেলন চলছে।
ফেসবুকে হাদির মৃত্যু নিয়ে হাজার হাজার পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। এক পোস্টে লেখা, "শহীদ ওসমান হাদীর এই আর্জি কি পূরণ করতে পারবে বাংলাদেশ?" টাজউদ্দিন হাসান লিখেছেন, "Deeply shaken by what happened to Osman Hadi today. We may not agree with his ideology but nothing justifies such violence." দেশ টিভি জানিয়েছে, "হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা।" অনেকে তাঁকে 'শহীদ' বলে সম্বোধন করে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন দোয়া পড়ছেন। ডেইলি মানবজমিনের ভিডিও পোস্টে হত্যার হুমকির ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনুস বলেছেন, "হাদির মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ভয় বা হিংসায় গণতন্ত্র আটকানো যাবে না।" জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য দল শোক প্রকাশ করেছে। হাদির মৃত্যুতে দেশে সহিংসতা বেড়েছে, বিবিসি রিপোর্ট অনুযায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ জারি রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনা বাংলাদেশের যুব-রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তুলেছে।