আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা জানিয়েছেন, টানা ৭২ ঘণ্টা উপবাস (fasting) মানবদেহে এক ধরনের “রিসেট” প্রক্রিয়া শুরু করে যা সম্পূর্ণ ইমিউন সিস্টেমকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় উপবাসে শরীরের গ্লুকোজ ও চর্বির মজুদ ফুরিয়ে যায়। এর ফলে শরীর ডিটক্স অবস্থায় প্রবেশ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও বিষাক্ত উপাদান দূর করে ফেলে। উপবাস শেষে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ শুরু হলে শরীরের স্টেম সেল সক্রিয় হয় এবং নতুন, সুস্থ শ্বেত রক্তকণিকা (white blood cells) উৎপাদন শুরু করে।
এই প্রক্রিয়াকে গবেষকরা “ইমিউন রিবুট ইফেক্ট” (immune reboot effect) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ইঁদুর এবং মানুষের ওপর সমানভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণার প্রধান ড. ভ্যালটার লঙ্গো, ইউএসসি লিওনার্ড ডেভিস স্কুল অব জেরোন্টোলজির অধ্যাপক, বলেন—
“উপবাসের সময় একটি বিশেষ জিন ‘PKA’ দমন হয়। এই জিন বন্ধ না হলে স্টেম সেল পুনর্জন্মের মোডে যেতে পারে না। উপবাসে সেই জিন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে নতুন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়।”
তিনি আরও জানান, উপবাসের মাধ্যমে পুরনো ও দুর্বল ইমিউন কোষ দূর হয়ে যায় এবং শরীর নতুনভাবে শক্তিশালী কোষ তৈরি করে।
গবেষকরা বলেছেন, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন হলেও প্রাথমিক ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে উপবাস একটি ওষুধবিহীন প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে—বিশেষ করে বয়সজনিত দুর্বলতা বা ক্যানসার চিকিৎসায় থাকা রোগীদের জন্য।