মানবিকতার নিদর্শন হয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার হেনরি “ববি” পিয়ার্স
অলিম্পিক গেমস মানেই প্রতিযোগিতা, ঘাম, অদম্য লড়াই। কিন্তু ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে যা ঘটেছিল, তা প্রমাণ করে যে খেলাধুলা কেবল জেতার জন্য নয়—মানবিকতা ও চরিত্রের পরিচয় দেওয়ারও এক মহামঞ্চ।
অস্ট্রেলিয়ান রোয়ার হেনরি পিয়ার্স সেদিন সিঙ্গেল স্কালিং ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে নামেন। শুরু থেকেই তিনি এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সামনে একটি হাঁস মা ও তার ছানারা খালের পানি পেরোতে শুরু করে। পিয়ার্স তখন কী করলেন?
তিনি একটুও দ্বিধা না করে নৌকার গতি থামালেন। প্রতিপক্ষ এগিয়ে গেলেও তিনি শান্তভাবে হাঁসগুলিকে নিরাপদে পার হতে দিলেন।
যখন আবার দৌড় শুরু করলেন, তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকটা এগিয়ে গেছেন। কিন্তু পিয়ার্স হার মানেননি। অবিশ্বাস্য শক্তি ও দক্ষতায় তিনি আবার লিড নিলেন—শুধু তাই নয়, ৩০ সেকেন্ড ব্যবধানে জিতলেন এবং নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়লেন।
এই ঘটনার পর পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছিল। পিয়ার্সের এই আচরণকে “অলিম্পিক স্পিরিটের প্রতীক” বলা হয়। অলিম্পিকের প্রতিষ্ঠাতা পিয়েরে দ্য কুবার্তিনের সেই বিখ্যাত উক্তি—
“জীবনের আসল বিষয় হলো জয় নয়, বরং সৎভাবে লড়াই করা”—
ঠিক যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছিল ববি পিয়ার্সের সেই মুহূর্তে।
পিয়ার্স পরে ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকেও সোনা জেতেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব রোয়িংয়ে আধিপত্য বজায় রাখেন। ১৯৮৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ান হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। অনেকে তাকে এখনও বলেন—“দ্য ফাইনেস্ট স্কালার অব অল।”