গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীর গুলিতে নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন এলজিআরডি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, চলমান ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমাদের বারবার যোগাযোগ করেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজি না হলে হত্যার নির্দেশ রয়েছে—এই হুমকি ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে সরাসরি জানানো হয়।
৫ আগস্ট ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে আসিফ আরো জানান, তার সামনেই পুলিশের গুলিতে দুজন প্রাণ হারান। পরে জানতে পারেন, মোট ছয়জনকে বন্দুকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ চাইনিজ রাইফেল ও শর্টগান ব্যবহার করেছে।
আসিফের অভিযোগ, ওইদিন দুপুরে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এমন খবরও ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং গুলিচালানো পুলিশ সদস্য ও কমান্ড কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী করে সাক্ষ্য দেন আসিফ মাহমুদ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন।
এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ১৬ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীমসহ অন্যান্যের উপস্থিতি ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।