← Back

বাজার খরচে সাশ্রয় টিপস

মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও খরচ কমানো সম্ভব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কেনাকাটা ও রান্নায়

সুপার মার্কেট
ছবিঃ সুপার মার্কেট
বাজারের দামে ঊর্ধ্বগতি থামানো হয়তো ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সচেতন কেনাকাটা, পরিকল্পনা করে রান্না আর কিছু ঘরোয়া কৌশল মেনে চললে মাস শেষে খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। কীভাবে বাজার খরচ কমাচ্ছেন সে বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমস পাঠকদের টিপস।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

খাবারের বাজারে দামের ওঠানামা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মুদ্রাস্ফীতি, শুল্ক আর সরবরাহ চেইনের সমস্যার কারণে অনেকের ধারণা—ভালো খেতে হলে এখন অনেক টাকা খরচ করতেই হবে। কিন্তু পাঠকেরা জানাচ্ছেন, বিষয়টি তেমন নয়। সচেতনতা আর কিছু বুদ্ধি খাটালেই খাওয়াদাওয়া যেমন বৈচিত্র্যময় রাখা যায়, তেমনি খরচও কমানো সম্ভব।

১. বাজারে যাওয়ার আগে রান্নাঘর ঘুরে আসুন

অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়াই আমরা বাজারে যাই এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলি। পাঠকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন—সপ্তাহে একদিন ‘প্যান্ট্রি ডে’ রাখুন। ফ্রিজ ও আলমারিতে যা আছে তাই দিয়ে একবেলা রান্না করুন। সবজি ভাজা, ভর্তা, ডাল-ভাত, খিচুড়ি কিংবা ফ্রাইড রাইস—অবশিষ্ট উপকরণ দিয়েই চমৎকার খাবার তৈরি সম্ভব।

২. বাজারের মাঝখান এড়িয়ে চলুন

বাজারে ঢুকলেই চারপাশে প্যাকেটজাত খাবারের প্রলোভন। একজন পাঠকের কৌশল—“আমি শুধু উপকরণ কিনি, প্রোডাক্ট নয়।” তিনি বাজারের বাইরের অংশে ঘোরেন, যেখানে থাকে সবজি, মাছ, মাংস আর ফল। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে যায়।

৩. একটি উপকরণে একাধিক পদ

একজন পাঠক লিখেছেন—“আমরা এখন পরিকল্পনা করে খাবার বানাই। এক উপকরণ দিয়েই সপ্তাহজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার বানানো যায়।”
যেমন—এক হাঁড়ি কালো ছোলা রান্না করলে সেটি দিয়ে একদিন ভর্তা, আরেকদিন তরকারি, আবার আরেকদিন পরোটা রোল তৈরি করা যায়। একইভাবে আলু, ডাল বা ডিম দিয়েও তৈরি করা সম্ভব নানা পদ।

৪. অফারে কিনুন, ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন

মাংস বা মাছ ছাড়ে কিনে ছোট ছোট ভাগে ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। যেমন—কিমা মাংস ভাগ করে রাখা যায় বার্গার, কোফতা, কিমা ভুনা বা মিটলোফের জন্য আলাদা আলাদা পরিমাণে।

৫. বারবার বাজার করুন

শুনতে অদ্ভুত হলেও, অনেকেই বলছেন বড় কেনাকাটার চেয়ে ছোট ছোট করে বাজার করলে অপচয় কমে। তাজা ফল-সবজি যখন যেমন পাওয়া যায়, সেদিন সেদিন কিনে রান্না করলে খাবারের মানও ভালো থাকে।

৬. রোটিসেরি চিকেনের পূর্ণ ব্যবহার

অনেকে বলেন, বাজার থেকে একটি রোস্ট/রোটিসেরি চিকেন কিনে সপ্তাহজুড়ে নানা পদ তৈরি করা যায়। মাংস দিয়ে স্যুপ, সালাদ, পাস্তা, ভাত—আর হাড় দিয়ে ঝোল বা স্টক তৈরি করে ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যায়।

৭. বাজার থেকে না কিনে ঘরেই বানান

চিলি সস, দই, পাঁউরুটি, গ্র্যানোলা—এসব ঘরে বানানো অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী। অনেকে আবার চিলি ক্রিস্প বা আচার ঘরে তৈরি করে সপ্তাহে ব্যবহার করছেন। এতে শুধু খরচ কমেই না, খাবারের মানও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

৮. কম দামে বেশি স্বাদ

সস্তা মানেই খারাপ নয়। মুরগির রান বা উরু, গরুর চাঁপ বা ঝোলের মাংস দিয়ে বানানো ভুনা কিংবা কারি অনেক বেশি সুস্বাদু হয়। ধীর আঁচে রান্না করলে সস্তা মাংসও মুখে গলে যায়।

৯. মাংস খাওয়া কমান

শুধু মাংস নয়, ডাল, শিম, ছোলা, টফু বা মাশরুম দিয়েও তৈরি করা যায় পুষ্টিকর পদ। “আমরা এখন সপ্তাহে অন্তত একদিন পুরোপুরি নিরামিষ খাই,” জানালেন এক পাঠক।

১০. বাল্কে কিনুন

চাল, ডাল, আটা, চিনি—এসব বড় পরিমাণে কিনলে দামও কমে আর সবসময় ঘরে খাবারের জিনিস মজুত থাকে। অনেকে রান্না করা ভাত বা ডাল ভাগ করে ফ্রিজে রেখে সপ্তাহে ব্যবহার করেন।

১১. নিজের সবজি-গাছ ফলান

ঘরের বারান্দা বা রান্নাঘরে পুদিনা, ধনেপাতা, লাউপাতা কিংবা মরিচ গাছ লাগানো যায়। এতে খরচ কমে, অপচয় কমে, আর ঘরে থাকে সবসময় তাজা স্বাদ।

বাজারের দামে ঊর্ধ্বগতি থামানো হয়তো ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সচেতন কেনাকাটা, পরিকল্পনা করে রান্না আর কিছু ঘরোয়া কৌশল মেনে চললে মাস শেষে খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাঠকেরা প্রমাণ করে দিয়েছেন—খাবার যেমন সুস্বাদু হতে পারে, তেমনি খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যদি আমরা একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করি।

নামাজের সময়

--:--:--
  • ফজর --:--
  • যোহর --:--
  • আসর --:--
  • মাগরিব --:--
  • এশা --:--
লোড হচ্ছে...

শহর নির্বাচন করুন