আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় বহু বছরের গবেষণার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা হয়তো পেয়েছেন এক বড় সাফল্যের পথ। সাম্প্রতিক এক গবেষণা, যা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত হয়েছে, জানিয়েছে—মস্তিষ্কে প্রাকৃতিক লিথিয়ামের মাত্রা ফিরিয়ে আনা শুধু আলঝেইমার প্রতিরোধই নয়, বরং স্মৃতিভ্রংশও উল্টে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কে লিথিয়ামের স্বল্প মাত্রা আলঝেইমারের সাধারণ লক্ষণগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত—যেমন অ্যামাইলয়েড প্লাক, টাউ ট্যাঙ্গলস এবং মানসিক ক্ষমতা হ্রাস। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, লিথিয়াম কমে গেলে এসব ক্ষতিকর পরিবর্তন আরও দ্রুত বাড়ে, যা এক ধরনের দুষ্টচক্র তৈরি করে: লিথিয়াম কমে গেলে প্লাক বাড়ে, আর প্লাক আবার লিথিয়াম আরও কমিয়ে দেয়।
কিন্তু গবেষকরা যখন লিথিয়াম ঘাটতিযুক্ত ইঁদুরকে কম মাত্রার লিথিয়াম ওরোটেট দেন—যা সহজে প্লাকে আটকে যায় না—তখন দেখা যায় মস্তিষ্কের ক্ষতি উল্টে গিয়েছে এবং স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে। আশ্চর্যের বিষয়, সাধারণত ব্যবহৃত লিথিয়াম কার্বোনেট দিয়ে একই ফল পাওয়া যায়নি, যা সম্ভবত আগের মানব ট্রায়ালের মিশ্র ফলাফলের ব্যাখ্যা দেয়।
যদি মানুষের ক্ষেত্রেও এ ফলাফল প্রমাণিত হয়, তবে এটি হতে পারে আলঝেইমার চিকিৎসায় এক বড় বাঁক। বর্তমানে প্রচলিত ওষুধ শুধু রোগের গতি কমায়, কিন্তু হারানো স্মৃতি ফেরাতে পারে না। অথচ লিথিয়াম ওরোটেট একইসাথে বহু ক্ষতিকর প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করেছে, এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কোনো বিষাক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি—অন্তত ইঁদুরের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখের বেশি, আর বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি। সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং বহু-প্রভাবী এ ধরনের চিকিৎসা যদি কার্যকর হয়, তবে এটি হতে পারে বয়সজনিত সবচেয়ে বিধ্বংসী রোগের বিরুদ্ধে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।