স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগান্তকারী একটি ওষুধ হলো এলটেপ্লেজ ইনজেকশন। দেশে বর্তমানে মাত্র একটি কোম্পানি এটি বাজারজাত করে, যার ৫০ মিলিগ্রামের ইনজেকশনের দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা হলেও, সম্প্রতি নেদারল্যান্ড থেকে আনা প্রায় ১৭ কোটি টাকার ইনজেকশন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান এই ইনজেকশন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। ওই গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবিক সহায়তাদানকারী সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তারা বাংলাদেশে বিনামূল্যে এলটেপ্লেজ ইনজেকশন সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়।
চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার পর গত সোমবার ইনজেকশনগুলো রাজশাহী মেডিকেলে পৌঁছায়। নিউরোলজি ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু হয়। বুধবার থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের এ ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পর রোগীর রক্তে যদি ক্লট তৈরি হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায়, তবে এলটেপ্লেজ ইনজেকশন দিয়ে সেই ক্লট গলিয়ে দেওয়া সম্ভব। এতে রোগী প্রায় সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। সাধারণত একেকজন রোগীর চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ ভায়াল ইনজেকশন প্রয়োজন হয়। বর্তমান মজুদ অনুযায়ী প্রায় ৫০০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নেদারল্যান্ডে তৈরি এই ইনজেকশনের এক কোর্সের দাম প্রায় ৭ লাখ টাকা। অথচ ডিরেক্ট রিলিফের সহায়তায় রাজশাহী মেডিকেলের রোগীরা এটি পাচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এসব ইনজেকশনের মেয়াদ আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত। তাই এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলেন—“এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন। এমন দামী ওষুধ সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে দিতে পারা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে অনেক স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব হবে।”
রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, এত দামী ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ায় তারা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।