সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচটি ছিল অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা। তবে লিটন দাস সুযোগ কাজে লাগিয়ে খেলেন দুর্দান্ত ৭৩ রানের ইনিংস, যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
টস জিতে নেদারল্যান্ডস প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শুরু থেকেই লিটন দাস আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন। ড্যানিয়েল ডোরামের এক ওভারে টানা চার-চার-ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দেন নিজের দৃঢ়তার। এরপর কাইল ক্লাইনের বলেও বড় শট খেলেন লিটন। কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম ওভারেই নেমে আসে প্রথম বাধা—একটি ফ্লাডলাইট নষ্ট হয়ে খেলা ১১ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে।
খেলা পুনরায় শুরু হলে লিটনের ব্যাট থেকে আসে আরও কয়েকটি বাউন্ডারি। মাত্র ১৬ বলে ৪২ রানে পৌঁছে যান তিনি। তবে বৃষ্টির বিরতির পর ইনিংসের গতি কিছুটা কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৭৩ রানে আউট হন লিটন। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কায়।
বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ দিকে ঝড় তোলেন নুরুল হাসান সোহান ও জাকার আলি। ক্লাইনের এক ওভার থেকে তারা নেন ২২ রান। নুরুল অপরাজিত থাকেন ২২ রানে, আর জাকার করেন ১৯ রান। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ ১৮.২ ওভারে তোলে ১৬৪ রান। নেদারল্যান্ডসের হয়ে কাইল ক্লাইন ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
তবে শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে সিরিজের ফল দাঁড়ায় বাংলাদেশ ২-০ নেদারল্যান্ডস।
এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশ একদিকে নতুন খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সুযোগ দিয়েছে, অন্যদিকে লিটন দাস প্রমাণ করেছেন তার ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত। নুরুল হাসান দীর্ঘ সময় পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরে ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেছেন। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।