← Back

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ ডিজিসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

টিএফআই ও জেআইসি সেলে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম-নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিজিএফ‌আই এর সাবেক ৫ ডিজি
ছবিঃ ভিজিএফ‌আই এর সাবেক ৫ ডিজি। সংগৃহীত
বিরোধী মত ও রাজনৈতিক কর্মীদের অপহরণ, গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়েছে। আদালতের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধী মতের ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন এবং গুম করার জন্য র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা ও সাধারণ নাগরিকদের মাসের পর মাস গোপন আটক অবস্থায় নির্যাতন করা হয়।

দুই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান আসামি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁর সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন তৎকালীন মন্ত্রী, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তার নামও তালিকায় রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)–এর পাঁচজন সাবেক মহাপরিচালককে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—
১️⃣ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন
২️⃣ মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন
৩️⃣ লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম
৪️⃣ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী
৫️⃣ মেজর জেনারেল হামিদুল হক

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ কর্মকর্তারা তৎকালীন সরকারের নির্দেশে গঠিত টিএফআই ও জেআইসি সেলের মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতিকদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবীরা জানান, এ মামলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে দায়মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই মামলা বাংলাদেশে দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসানে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ মামলার অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, “জাতীয় নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদলকে ঘিরে এটি একটি প্রতিহিংসামূলক উদ্যোগ।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর ভেতরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ঐতিহাসিক বিচার।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাইব্যুনালের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কারণ, এবারই প্রথমবারের মতো দেশের সক্রিয় বা সাবেক সেনা গোয়েন্দা প্রধানদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেওয়া হলো।

দেশের রাজনীতিতে এই মামলার প্রভাব গভীর হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ রাজনীতি, প্রশাসন ও সামরিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।


মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সূচনা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশে গুম-নির্যাতন ও জবাবদিহিতা ইস্যু নতুনভাবে আলোচনায় আসবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

নামাজের সময়

--:--:--
  • ফজর --:--
  • যোহর --:--
  • আসর --:--
  • মাগরিব --:--
  • এশা --:--
লোড হচ্ছে...

শহর নির্বাচন করুন