স্যুট মানেই একসময় ছিল কাঠিন্য, শক্ত প্যাডিং আর আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে বন্দি একটি পোশাক। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে দেন ইতালীয় কিংবদন্তি ফ্যাশন ডিজাইনার জর্জিও আরমানি। তাঁর হাত ধরে স্যুট হয়ে ওঠে স্টাইলিশ, আধুনিক এবং একই সঙ্গে আরামদায়ক। গতকাল মিলানে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
আরমানি শুধু পুরুষদের স্যুটেই বিপ্লব আনেননি, নারীদের কাছেও তাঁর স্যুট এবং পোশাক সমান জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর সৃষ্ট নরম কাঠামোর স্যুট ১৯৮০-এর দশকে বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন প্রবণতায় পরিণত হয়। পরে তিনি হলিউডের সেলিব্রেটিদের কাছে পৌঁছে দেন নিজের ডিজাইন। মিশেল ফাইফার, জর্জ ক্লুনি থেকে শুরু করে অসংখ্য তারকা রেড কার্পেটে এবং পর্দার সামনে আরমানির পোশাক পরে হাজির হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিব্রেটিদের সঙ্গে ফ্যাশনের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে আরমানিই ছিলেন পথিকৃৎ। আজকের দিনে প্রায় সব ডিজাইনারই তারকাদের সঙ্গে কাজ করাকে তাদের ব্র্যান্ড ইমেজের অংশ মনে করেন, কিন্তু এই সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন আরমানি নিজে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রধান ফ্যাশন সমালোচক ভ্যানেসা ফ্রিডম্যান তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন:
“তাঁর পোশাক ছিল একদিকে বর্ম, অন্যদিকে ইউনিফর্ম, কিন্তু কখনোই আক্রমণাত্মক নয়।”
আরমানির দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও পরিচয়ের প্রতীকও বটে। তাঁর সৃষ্ট ডিজাইন বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন অঙ্গনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
তাঁর জীবন ও কর্মের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফ্যাশন সমালোচক গাই ট্রিবে ২০২৪ সালে একটি সাক্ষাৎকারে লিখেছিলেন, “আরমানি তাঁর স্যুটের মাধ্যমে পুরুষ ও নারী উভয়ের শরীরে একই সঙ্গে ক্ষমতা, সৌন্দর্য ও আরামকে একত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন।”
ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে আজকের দিনে পাওয়ার স্যুট এক স্বাভাবিক শব্দ হলেও এর জন্মদাতা ছিলেন জর্জিও আরমানি। তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে ফ্যাশন দুনিয়ার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।