← Back

সীসা দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপই পারে বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে

সীসা দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপই পারে বাংলাদেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে
ছবিঃ আইসিসিডিডিআর, বি
ঢাকায় সীসা নির্গমণকারী শিল্প-স্থাপনার বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

ঢাকায় সীসা নির্গমণকারী শিল্প-স্থাপনার বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।
আইসিডিডিআর,বি (icddr,b) আয়োজিত “বাংলাদেশে সীসা দূষণ প্রতিরোধ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় উঠে আসে দেশের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য সীসা দূষণ কতটা মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

সীসা: শিশুদের জন্য নীরব ঘাতক

সীসা এক প্রকার বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে সীসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই
যুক্তরাষ্ট্রের CDC বলে, প্রতি লিটারে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম সীসা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশু উচ্চমাত্রার সীসা দূষণের মধ্যে বসবাস করছে, যা বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

সীসা দূষণ–সংক্রান্ত প্রধান গবেষণা ফলাফল (২০০৯–২০২৪)

 

বছর / সময়কালগবেষণার ফলাফলমন্তব্য / প্রেক্ষাপট
২০০৯–২০১২ঢাকার বস্তির ৮৭% শিশুর রক্তে সীসার মাত্রা > ৫০ µg/Lবয়স: ২ বছরের কম, শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি
২০১৯রান্নার হলুদের ৪৭% নমুনায় সীসা পাওয়া গেছেআইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ডের যৌথ গবেষণা
২০২১হলুদের সীসা শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসেআইনি পদক্ষেপ ও সচেতনতামূলক প্রচারের ফল
২০২২–২০২৪৫০০ শিশুর রক্তে গড় সীসা ৬৭ µg/L; ৯৮% শিশুর ≥ ৩৫ µg/LCDC অনুযায়ী এটি উদ্বেগজনক মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

শিল্পস্থাপনার প্রভাব: সীসা-নির্ভর শিল্পস্থাপনার ১ কিমির মধ্যে থাকা শিশুদের রক্তে সীসার মাত্রা ৪৩% বেশি

বাংলাদেশে সীসার মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে:

ব্যাটারি কারখানা ও পুনর্ব্যবহার

সীসাযুক্ত রঙ ও প্রসাধনী

রান্নার পাত্র ও হলুদ

ঘরের ধূমপান ও ধূলিকণা

গবেষকদের সুপারিশ:

সীসা নির্গমণকারী শিল্প স্থানান্তর শহরের বাইরে

ধূমপান নিরুৎসাহিতকরণ, বিশেষ করে ঘরে

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস বাড়ানো

পরিবেশবান্ধব ব্যাটারির ব্যবহার (লিথিয়াম-আয়ন, নিকেল-জিঙ্ক)

সীসামুক্ত পণ্য ব্যবহারে জনসচেতনতা

আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য:

প্রফেসর স্টিভ লুবি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও আইসিডিডিআর,বি-র সাবেক পরিচালক বলেন: “এতভাবে সীসা শরীরে প্রবেশ করে যে, নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এর সংস্পর্শ এড়ানো অসম্ভব।”

ড. তাহমিদ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, আইসিডিডিআর,বি:“সীসা শিশুর মস্তিষ্কের গঠন, পুষ্টি এবং ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখনই সময় এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।”


সীসা দূষণ রোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় শিল্প-নীতি, জনসচেতনতা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় আরও জোর দিতে হবে।

নামাজের সময়

--:--:--
  • ফজর --:--
  • যোহর --:--
  • আসর --:--
  • মাগরিব --:--
  • এশা --:--
লোড হচ্ছে...

শহর নির্বাচন করুন