বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

‘না’ ভোটের বিধান ফিরল, ইভিএম বাদ: আরপিও সংশোধনের চূড়ান্ত প্রস্তাব ইসির

সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করে নির্বাচন আইন সংশোধন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল, জোটবদ্ধ দলগুলোর নিজ প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ

ec
ছবি: সংগৃহিত

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন পর ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সকল বিধান বাতিল, সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন পর ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সকল বিধান বাতিল, সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া।

সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, চূড়ান্ত প্রস্তাবনাগুলো আগামী সপ্তাহেই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

‘না’ ভোট ও মিথ্যা তথ্যের শাস্তি
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটাররা এবার থেকে পুনরায় ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে—even নির্বাচিত হওয়ার পরেও—তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সংসদ সদস্যের পদ খোয়া যাবে।

ইভিএমের বিদায়
কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইভিএম বা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন সংক্রান্ত সব ধারা ও বিধান আরপিও থেকে বাদ দেওয়া হবে। ফলে ভবিষ্যতের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে পুরোপুরি ব্যালট পেপার নির্ভর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। ইসি সানাউল্লাহ জানান, প্রয়োজন হলে কমিশন এসব বাহিনীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা
সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যদি কোনো দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন সরাসরি সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি
ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। তবে গণনার মাঝপথে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সুযোগ থাকবে না, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।

নতুন রাজনৈতিক দলের তদন্ত
সানাউল্লাহ জানান, সম্প্রতি ২২টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করেছে। এসব দলের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে কমিশন, যাতে তাদের কার্যক্রম ও শর্ত পূরণের বিষয়টি যাচাই করা যায়।

নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসির প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, তবে ইভিএম বাতিলের সিদ্ধান্ত ভোট গণনার গতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ধারায় একটি বড় পরিবর্তন আনবে।