সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

সাংবাদিকদের ‘পেটানোর’ হুমকির বক্তব্য: ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির এক কার্যনির্বাহী সদস্য সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছেন ইসলামি বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে।

সাংবাদিকদের নিয়ে ‘পেটানোর’ মন্তব্য করায় ইসলামি বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঢাকার আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে রোববার এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি, হামলার হুমকি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুরের মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’ একই বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে নিজের বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইন ভাঙার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সাংবাদিকেরা ইতিবাচক খবর প্রচার না করে পিস্তল নিয়ে দৌড়ানোর খবর প্রচার করেছেন।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজে এবং অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি দিয়েছেন। এতে সাংবাদিকতার জন্য ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নোটিশদাতার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বক্তব্যটি সাংবাদিকতা পেশা ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য চরম অবজ্ঞামূলক, মানহানিকর এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

নোটিশদাতা আজহারুল ইসলাম বলেন, একজন ইসলামি বক্তা হয়ে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া ন্যক্কারজনক। তাঁর ভাষ্য, বক্তব্যটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমা চাইতে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে তাঁরা বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।