রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

রামেকে ১০০ শয্যার আইসিইউ চালুর উদ্যোগ, নভেম্বর-ডিসেম্বরে একযোগে চালু হতে পারে পাঁচ শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জানান, জনবল ও অবকাঠামো সংকট কাটাতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট কাটাতে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করা হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পরিদর্শনের পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। রাজশাহীর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত শিশু হাসপাতাল কবে চালু হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সারা দেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে, যন্ত্রপাতি ও আসবাব কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। তাঁর আশা, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

রামেক হাসপাতালের সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৩ সালে শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে এখনো মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই হাসপাতালটি চলছে। তাঁর ভাষ্য, আগের সরকার শয্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সেই সক্ষমতা তৈরি করেনি; বর্তমান সরকার ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার সঙ্গে ১০০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রামেকসহ দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রামেকের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব ও সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি, ফলে সাপে কাটা রোগীও অনেক। কিন্তু অনেক সময় হাসপাতালে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রামেকের আইসিইউ ভবনের লিফট সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ এবং লিফট বসানো না হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশেষ সহকারী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে লিফট সরবরাহ করেছিল, তা যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও নতুন করে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই প্রতিবেদন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।