রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে কক্ষ না পেয়ে সৈকতে রাত কাটানোর যে ছবি ছড়িয়েছে, যাচাইয়ে দেখা গেছে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি

হোটেল মালিক সমিতি ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, কক্সবাজারে পর্যটকদের সৈকতে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

কক্সবাজারে হোটেলে কক্ষ না পেয়ে পর্যটকেরা সমুদ্রসৈকতে রাত কাটাচ্ছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি গত শুক্রবার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। যাচাই করে দেখা গেছে, ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

ছবিতে বালুর ওপর মাদুর বিছিয়ে ব্যাগ, লাগেজ ও বালিশ নিয়ে বেশ কয়েকজনকে শুয়ে থাকতে, কয়েকজনকে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিতে এবং অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এমন একাধিক ছবি ছড়িয়েছে। এসব ছবির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আবাসনসংকটে পড়েছেন শত শত পর্যটক।

আলোচিত ছবিটি প্রায় সাত লাখ অনুসারী থাকা একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘কক্সবাজারে কষ্ট! হোটেলে রুম না পেয়ে আকাশের নিচে সমুদ্রে পেতেছি শয্যা’। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পোস্টটিতে এক হাজার ছয় শতাধিক প্রতিক্রিয়া পড়েছে, আর মন্তব্যে অনেকে ছবিটিকে বাস্তব ধরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে কয়েকজনের হাত ও মুখমণ্ডলে অস্বাভাবিক বিকৃতি এবং আলো-ছায়ার ক্ষেত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে। যাচাইয়ের অংশ হিসেবে হাইভ মডারেশন ও সাইট ইঞ্জিনসহ চারটি এআই-ছবি শনাক্তকারী টুল ব্যবহার করা হয়। এসবের ফলাফলেও ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা গেছে।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, হোটেলে কক্ষ না পেয়ে পর্যটকদের সৈকতে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতি কক্সবাজারে গত ১০ বছরে ঘটেনি। তাঁর ভাষ্য, এআই দিয়ে তৈরি এমন ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে; বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

কক্সবাজারের ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার নিশাদ জামান বলেন, ওই এআই-ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে, এতে পর্যটকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি জানান, প্রকৃত অর্থে কক্সবাজার সৈকতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।