শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না: ফটিকছড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগরী মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণহত্যায় জড়িতদের অনুশোচনা না করা পর্যন্ত মানুষ তাঁদের রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগরী মাদরাসার এক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনুশোচনা প্রকাশ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ তাঁদের রাজনীতিতে ফিরতে দেবে না। তাঁর ভাষ্য, যাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেননি, অনুশোচনা করেননি এবং গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, তাঁরা এ দেশে এসে আর রাজনীতি করতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৬–১৭ বছর আলেম-ওলামাসহ দেশের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাপলা চত্বরের ঘটনায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, তাঁদের সবার নাম ও কবরের ঠিকানা এখনো জানা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর আগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

গার্মেন্টস খাতে চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যাঁরা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমালোচনা ও গঠনমূলক আলোচনা করা যেতে পারে, সরকারকে অসহযোগিতাও করা যেতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করা যাবে না।

ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা একটি দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তারা নিজেদের ইসলামী দল দাবি করলেও নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামী শাসনব্যবস্থা বা শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলেনি। বিএনপির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর দল জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের কথাটি পুনরায় যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এবং আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।