শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

নাটোরের নলডাঙ্গায় সারের ডিলারের দোকানে ভোর থেকে লাইন, টোকেন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ; পুলিশ মোতায়েন

কৃষকদের অভিযোগ, একটি চক্র টোকেন সংগ্রহ করে আগে সার তুলে নিচ্ছে; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, সারের কোনো সংকট নেই।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় চাহিদামতো সার না পেয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়া, টোকেন বিতরণে অনিয়ম ও বিতরণ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিবাদ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জমিতে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডিলারের দোকানে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকরা। অনেকে ভোররাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন উপায়ে টোকেন সংগ্রহ করে লাইনের আগে গিয়ে সার তুলে নিচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা টোকেন হাতে নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সার পাচ্ছেন না। তাঁদের দাবি, জমি না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ ভ্যানভর্তি করে সার নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময়ে তা না পেলে চাষাবাদ ব্যাহত হবে এবং ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

সার বিতরণকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা দেখা দিলে উপজেলা কৃষি অফিস ও নলডাঙ্গা থানা থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের চেষ্টা চলে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষকরা সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, টোকেন বাণিজ্যের অনিয়ম বন্ধ করে জমির পরিমাণ ও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ আলী বলেন, এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয় এবং ডিলাররা নিয়ম মেনে সার বিতরণ করেন, সে জন্য তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে।