গাজায় ইসরায়েলের নতুন আক্রমণে অন্তত ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি অবরোধ ও খাদ্য সংকটের কারণে তিনজন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুধা-সংক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯, যাদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।
গাজার কেন্দ্রীয় শহরে অভিযান শুরু
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শুরু করেছে। প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বর্তমানে শহরে আটকে আছেন, যাদের জন্য মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেছেন, গাজা সিটির ওপর এ অভিযান “পুনরায় ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটাবে”, যেখানে মানুষ বারবার তাদের ঘর-বাড়ি হারাচ্ছে।
দুর্ভিক্ষের ছায়া
গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP) সতর্ক করেছে, এটি কেবল ক্ষুধা নয়, সরাসরি অনাহার (starvation)।
সংস্থাটির ভাষায়:
“পুষ্টিহীনতা এক নীরব ঘাতক, যা জীবনভর ক্ষতি করে এবং সাধারণ অসুখকেও প্রাণঘাতী করে তুলতে পারে।”
জাতিসংঘের UNRWA জানিয়েছে, গাজা সিটির প্রায় প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজন এখন মারাত্মকভাবে অপুষ্ট।
হামলা ও হতাহত
ইসরায়েলি হামলার মধ্যে জাবালিয়ার একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের ওপর আঘাত হানে। দক্ষিণ গাজায় একটি তাঁবুতেও বিমান হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
খাদ্য সহায়তা বিতরণকেন্দ্রে গুলিতে মারা গেছেন গাজা জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ শা’লান। বুধবার একদিনেই এ ধরনের সহায়তা কেন্দ্রে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হন।
জ্বালানি সংকটে জরুরি সেবা
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট এতটাই প্রকট যে, তাদের অনেক উদ্ধারযান পথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম কঠোরভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নতুন বাস্তুচ্যুতির ঢেউ
ইসরায়েলি সেনারা শহরের উত্তরাংশ জাবালিয়া ও জেইতুন এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ ঘরবাড়ি পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করছে। আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলছেন,
“এটি এমন একটি কৌশল যা মানুষকে গাজায় ঘরবাড়ি থেকে বঞ্চিত করে, যাতে তারা বাধ্য হয়ে পালাতে বাধ্য হয়।”
যুদ্ধবিরতির দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ
মিশর ও কাতার মধ্যস্থতায় সম্প্রতি প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে হামাস সম্মতি দিয়েছে। প্রস্তাবে বন্দি বিনিময় ও সাহায্য সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনো সাড়া দেয়নি।
হামাস অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন এবং যুদ্ধ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আলহেনদাভি বলেন,
“গাজায় শিশুরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা কেবল মানবিক নয়, এটি এক প্রলয়ঙ্কর বাস্তবতা।”
মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়াল
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ১২২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।