বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ব্যাংকগুলোর ডলার ধরে রাখার সীমা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা

বড় আমদানি দায় মেটাতে কয়েকটি ব্যাংকের নেট ওপেন পজিশন সীমা বাড়ানো হয়েছে; তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা নিজেদের কাছে ধরে রাখার সীমা, অর্থাৎ নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বড় অঙ্কের পণ্য আমদানির দায় পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। তবে এতে ঝুঁকির মাত্রাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা, এবং তাঁরা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এনওপি সীমা বাড়ানো হয়েছে। একটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগের ৩৯ মিলিয়ন ডলারের সীমা বাড়িয়ে ৮০ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক তাদের সীমা ৪০ মিলিয়ন থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আবেদন জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ের আগে ব্যাংকগুলো তাদের নিয়ামক মূলধনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত এনওপি রাখতে পারত। ডলার সংকট তীব্র হলে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যবস্থায় কঠোরতা আরোপ করে। সীমা বাড়ানোর ফলে এখন যেসব ব্যাংক বড় সরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে, তারা পেমেন্টের অনেক আগে থেকে ধাপে ধাপে ডলার কিনে রাখতে পারবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলার মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে। সীমা সংকুচিত থাকলে বড় এলসি পেমেন্টের আগে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার সংগ্রহে বাধায় পড়তে পারত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এই উন্নতি সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সহায়ক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একজন ব্যাংকার বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি এলসির বড় অঙ্কের পেমেন্টের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। সামনে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়তে পারে, আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তাও আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে।

ঝুঁকির দিকও রয়েছে। ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে ডলারের দাম বাড়বে—এই প্রত্যাশায় বাড়তি ডলার বাজারে না ছেড়ে নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারে। একাধিক ব্যাংক একই কৌশল নিলে আন্তঃব্যাংক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এবং ডলারের দাম বেড়ে যেতে পারে। আবার আগাম কেনা ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য বাড়লে ব্যাংকের লোকসানের ঝুঁকিও থাকে। অতীতে এনওপি সীমা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে কয়েকটি ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার বিক্রিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই কার্যকর তদারকিই এখন মূল বিষয় বলে মনে করছেন তাঁরা।