শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

চরভদ্রাসনে পদ্মার অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ২০টি চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করল প্রশাসন

সংসদ সদস্যের নির্দেশের ১৮ দিন পর শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বাঁশ ও মাটির বাঁধ সরানো হয়েছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাঁধ সরাতে সংসদ সদস্যের নির্দেশের ১৮ দিনেও ব্যবস্থা না নেওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর শালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী পদ্মার সংযোগস্থলে নির্মিত বাঁশের বাঁধ, মাটির বাঁধ ও মাছ ধরার ফাঁদ সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযানে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ২০টি চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উচ্ছেদ করা বাঁধের বাঁশ ঘাটে এনে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়, যা থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর ওই অংশে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং মাছের চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সাধারণ জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারছিলেন না। বাঁধ নির্মাণের পেছনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের নাম আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী জেলেরা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে বাঁধ উচ্ছেদের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দেন। সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দেশের ১৮ দিনেও বাঁধ না সরায় জেলেরা বিপাকে পড়েছিলেন। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে খবর প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এলে দ্রুত অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের পর জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন অবৈধ বাঁধের কারণে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছিলেন না; প্রশাসনের এ উদ্যোগে তাঁরা নতুন করে আশা দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযান শুধু একদিনে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকুক, যাতে কেউ আবার অবৈধ বাঁধ দিয়ে জেলেদের জীবিকা বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।