রাঙামাটির সাজেকে টানা সাত দিন ধরে অবরোধ চলছে। বুধবারও সকাল থেকে সাজেক সড়কে কোনো যান চলাচল করেনি। এতে এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন জুমচাষিরা; পর্যটক পরিবহনের কয়েক শ গাড়ির চালক ও সহকারীরা আয় হারিয়ে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের এই অবরোধ চলছে, যা দুই সংগঠনের তৃতীয় দফা অবরোধ। সংগঠন দুটি তিন দফা দাবিতে ১১ অক্টোবর একদিনের অবরোধ করে, ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ডাক দেয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে; পর্যটকেরা এলাকা ছেড়ে গেছেন। ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন; ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা বলেন, বাসিন্দারা ঘরে মজুত খাবারে দিন কাটাচ্ছেন এবং রুইলুই পাড়ার পাঁচটি দোকানের পণ্যও শেষের পথে; অবরোধ আরও দু-এক দিন চললে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জৌপেইথাং ত্রিপুরা জানান, তাঁর ওয়ার্ডের ২২টি পাড়ার অধিকাংশ মানুষ জুমচাষনির্ভর। তাঁরা মাচলং বাজারে যেতে না পারায় কলা, পেঁপে, আখ, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া ও কচুর মতো পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না, অনেক পণ্য পেকে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে শুঁটকি, নাপ্পি ও ওষুধেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
পিকআপ চালক ইসমাইল হোসেন জানান, দিনে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন; এখন পাঁচ হাজার টাকা ধার করে চলছেন। এখন পর্যটনের মৌসুম বলে এই কয়েক মাসই তাঁদের আয়ের সময় বলে তিনি উল্লেখ করেন। পিকআপের সহকারী মো. শাকিল খন্দকার প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরি পেতেন; চাঁদের গাড়ির চালক অংগোজাই মগ পেশা বদলের কথা ভাবছেন। পিকআপ মালিক মো. মুন্নাকে আট লাখ টাকা ঋণে কেনা গাড়ির জন্য মাসে ৩২ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়।
খাগড়াছড়ির যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, তাঁদের সমিতির ২৫০টি এবং জিপ মালিক সমিতির ৫০০টির বেশি গাড়িসহ দেড় হাজারের বেশি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে; জেলায় যানবাহন খাতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত অবরোধ চলবে। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।