রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওতে দাবানলে বিপন্ন ওরাঙ্গুটান ও গিবন প্রজাতি: আইইউসিএন

সপ্তাহব্যাপী চলমান দাবানলে আবাসস্থল ধ্বংস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইইউসিএন।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওতে চলমান দাবানল মহাবিপন্ন বোর্নিও ওরাঙ্গুটানদের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। এই দাবানল সপ্তাহ ধরে বোর্নিও এবং সুমাত্রার বিভিন্ন অংশে অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও শ্বাসরুদ্ধকর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এই আগুন বোর্নিওর ৫২ শতাংশ ওরাঙ্গুটান জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে সরাসরি প্রভাবিত করছে, যার মধ্যে ২০টি বৃহত্তম অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীর ১৩টি অন্তর্ভুক্ত। আগুন ও ধোঁয়ার সংস্পর্শে ওরাঙ্গুটানদের শারীরবৃত্তীয়, আচরণগত এবং পরিবেশগত গুরুতর ক্ষতি হচ্ছে। এমনকি, ধোঁয়াশার সময় ওরাঙ্গুটানরা বেশি খাওয়া এবং বেশি বিশ্রাম নেওয়া সত্ত্বেও তাদের শরীরে চর্বি ভাঙার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর বর্ধিত চাপের ইঙ্গিত দেয়। ওরাঙ্গুটান ছাড়াও, সুমাত্রা ও বোর্নিওর পাঁচটি গিবন প্রজাতির আবাসস্থলেও দাবানল দেখা গেছে। এ কারণে তাদেরও শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি এবং আবাসস্থল হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সরকার দাবানলে হুমকির মুখে থাকা ১০০টি প্রাণীকে উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে ৫৩টি ওরাঙ্গুটান রয়েছে বলে বন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে, সংরক্ষণবাদীরা কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার প্রচেষ্টার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। ফোরাম কনজারভাসি ওরাঙ্গুটান ইন্দোনেশিয়া (ফরিনা)-এর রোনা সাব বলেন, জরুরি প্রতিক্রিয়ার পর ভবিষ্যতে আগুন প্রতিরোধে টেকসই বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পিটভূমি রক্ষা ও পুনরায় আর্দ্র করা, নিষ্কাশন ও বন উজাড় রোধ করা এবং পোড়া বনগুলিকে পরবর্তী রূপান্তর থেকে রক্ষা করে যথাযথভাবে পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত দেশব্যাপী ২,০২,০০০ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। তবে, নুসানতারা অ্যাটলাস প্রকল্পের তথ্যানুসারে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ৯,০০,০০০ হেক্টর জমি পুড়েছে।