বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

মোংলা বন্দরের ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দুটি নতুন জেটি ও কনটেইনার ইয়ার্ডসহ চার বছরের প্রকল্প; একই দিনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অবকাঠামো সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক সই।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন তিনি।

প্রকল্পের আওতায় বন্দরে দুটি আধুনিক জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্যবাহী কনটেইনার রাখার ইয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ ও ৪০ মিটার প্রশস্ত জেটিতে একসঙ্গে ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার দুটি অথবা ৫০ হাজার ডেডওয়েট টনের একটি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এ ছাড়া ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য শোর-টু-শিপ ক্রেনসহ ৪৯টি যন্ত্রপাতি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার বছর মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪ লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে। প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতাও তৈরি হবে। এতে কনটেইনার রাখার জায়গা বাড়বে এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর খরচ কমবে। চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন। গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি সই হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্প শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক

একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগে সহযোগিতার জন্যও প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব কথা জানিয়েছেন।