ঢাকার গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকার মাদকের আস্তানা ও অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিটি করপোরেশনের শক্তিশালী হুইল লোডার দিয়ে রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা ছোট ছোট কুঁড়েঘর ও ঘরের মতো সব অবৈধ কাঠামো একে একে ভেঙে ফেলা হয়।
পুলিশ জানায়, উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য এলাকাকে মাদকমুক্ত করা এবং রাস্তা পরিষ্কার করে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী করে তোলা। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ঘুন্টিঘর এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য করা হচ্ছে। রেললাইনের পাশে যে মাদকের আড্ডা ছিল, তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অভিযানে সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জায়গা হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও কিছুদিন পর সেখানে আবার মাদকসেবী ও কারবারিদের দেখা যেত। কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শককে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
এর আগে ১৯ অক্টোবর ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ এলাকায় ডিএনসি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০ বড় আকারের যৌথ অভিযান চালায়। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওই অভিযানে অন্তত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর এ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। পরে বিতর্কের মুখে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।