শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

রূপগঞ্জে মাদক কারবারির প্রতিবাদের জেরে এপিবিএন সদস্যের হাত-পা ভাঙা ও পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, ঢাকায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা

ছুটিতে বাড়িতে আসা আবুল কালামকে ফোন করে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল ও তাঁর ১০–১৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক কারবারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্যকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত আবুল কালাম (৩৫) বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাতে জানা গেছে, আবুল কালাম তারাবো পৌরসভার মাসাবো এলাকার বাসিন্দা। ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) তিনি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। গত মাসে মাসাবো এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহাদাত হোসেন (৩২) ও এমদাদুল হককে (২৯) পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন। এর পর থেকে শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল তাঁকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল মুঠোফোনে ফোন করে আবুল কালামকে বাড়ি থেকে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা শাহজালাল ও তাঁর ১০–১৫ জন সশস্ত্র সহযোগী অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। তাঁরা তাঁকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে ফেলেন। আবুল কালামের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ সদস্য আবুল কালাম তাঁর গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে এসে মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদন তৈরির সময় তা জানা যায়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।