রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, শহরের পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও সবুজ এলাকা ধ্বংসের কারণে শহর তার প্রাকৃতিক শীতলতা হারাচ্ছে।
রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, গত তিন দশকে রাজশাহী শহরে সবুজ এলাকা কমেছে ২৬ শতাংশ এবং জলাশয় কমেছে ৩ শতাংশ। বিপরীতে নির্মিত অবকাঠামো বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
‘সাস্টেইনেবিলিটি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি জানায়, শহরের মোট নির্মিত এলাকা ৯.৭৩ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২২.৯৯ বর্গকিলোমিটার হয়েছে, একই সময়ে সবুজ এলাকা কমেছে ১২.৪৮ বর্গকিলোমিটার এবং জলাশয় হারিয়েছে ১.৪৪ বর্গকিলোমিটার।
গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক মো. রেজাউর রহমান, বর্তমানে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ফুলব্রাইট রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন,
“সবুজ ও জলাধার কমে যাওয়ায় শহর তার উষ্ণতা মোকাবিলার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হারিয়েছে। এক সময় আমরা কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ও ঠাণ্ডা বাতাস দিয়ে শীতকে স্বাগত জানাতাম, এখন অক্টোবরে গরম পড়ে।”
তাপমাত্রার হটস্পট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজশাহীর কেন্দ্রীয়-উত্তর, কেন্দ্রীয়-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বর্তমানে উচ্চ তাপমাত্রার এলাকায় পরিণত হয়েছে—যেখানে একসময় বাগান, পুকুর ও গাছপালা ছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন,
“গত কয়েক বছর এল-নিনোর প্রভাব প্রবল ছিল, যার ফলে বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক শিক্ষক জাহাঙ্গীর শাহ, যিনি গত ১৩ বছর ধরে আবহাওয়ার তথ্য লিপিবদ্ধ করছেন, জানান—
“এবার আষাঢ়ে প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু ভারী বৃষ্টি একদিনও হয়নি। বৃষ্টির চেহারা বদলে গেছে—এখন বৃষ্টি যেন নামমাত্র।”
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি নগর পরিকল্পনায় জলবায়ু-সংবেদনশীল ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে রাজশাহী শহর ভবিষ্যতে তীব্র তাপ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিদ্যুৎচাহিদার সঙ্কটে পড়বে।