শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন ‘নিষিদ্ধ’ বললেন নেতানিয়াহু; কাতারের অর্থায়নের অভিযোগে তদন্ত চেয়েছে নির্বাচন কমিশন প্রধান

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৫৩ আসনে থেমে যাওয়া নেতানিয়াহুর জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নাকচ করেছে; আরব দলগুলো ও কাতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘তাদের সঙ্গে সরকার গঠন করা নিষিদ্ধ।’ একই সঙ্গে তাঁর দল লিকুদ অভিযোগ করেছে, দলগুলো ‘নির্বাচন চুরি’ করেছে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর আগে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩ আসন, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৪৮ আসন এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো মোট ১৯ আসন পেয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসন।

কাতারের অর্থ পাওয়ার অভিযোগ

নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা অভিযোগ করেছেন, আরব দলগুলোর অভাবনীয় সাফল্য বিদেশি অর্থে ঘটেছে এবং কাতারের কাছ থেকে তারা অর্থ পেয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। নির্বাচন কমিশনের প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ অভিযোগগুলো নিয়ে শিন বেটকে তদন্তের অনুরোধ করেছেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কাতার অভিযোগকে ‘সমানভাবে হাস্যকর ও বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে। আরব সংযুক্ত তালিকার নেতা আহমদ তিবি এটিকে নির্বাচনের ফল দুর্বল করার ‘বিষাক্ত প্রচারণা’ বলেছেন। রাআম দলের প্রধান মানসুর আব্বাস বলেন, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে উসকানি ও বৈধতা নষ্টের এই প্রচারণার জবাবে তাঁর একটাই কথা—এতে কিছু হবে না, কারণ এর কোনো ভিত্তি নেই। বিরোধী নেতা ইয়াইর গোলান বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে নেতানিয়াহু এখন ‘কুৎসিত বৈধতা-হরণ প্রচারণা’ চালাচ্ছেন।

সামনে কী

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু। তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো প্রধান জোটই সরকার গঠন করতে পারছে না। বিরোধী শিবিরের মধ্যেও আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট বা তাদের সমর্থনে সরকার চালানো নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে দীর্ঘ দর-কষাকষি, নাকি আবার নির্বাচনের মুখে পড়তে হবে—সেটিই এখন প্রশ্ন।