সার্বিয়ার আগাম সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ। প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে সেপ্টেম্বরে ডাকা এ নির্বাচনে রোববার ভোট হয়। ভুসিচ ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
নমুনা ফলের ভিত্তিতে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ভুসিচ বলেন, চূড়ান্ত ফল এখনো আসেনি, তবে “এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি, শিক্ষার্থীদের তালিকা জিতেছে।” তাঁর হিসাবে, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থী-সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পাবে, আর তাঁর সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পাবে ১০৫টি; আর কোনো দল সংসদে ঢুকতে পারেনি। ভুসিচ আরও বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ও মানুষ তাঁদের ছেড়ে যাবেন, তবে দল ঐক্যবদ্ধ এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের আছে।
এ ঘোষণার পরপরই বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন; গাড়ির হর্ন, নাচ আর “বিজয়” ও “তার খেলা শেষ” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ। বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী তালিকার প্রার্থী রাদোমির সাজিচ বলেন, “আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্যাপন করছি, আগামীকাল ভবিষ্যৎ গড়ব।”
আন্দোলনের সূত্রপাত ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা। এরপর দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, যা ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর দেশটিতে সর্বোচ্চ বলে বলা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে নজিরবিহীন সারি দেখা যায়; বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে ভুসিচকেও প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
ভুসিচের সমর্থকেরা তাঁর সরকারের আমলে অর্থনীতির আধুনিকায়ন এবং নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের কথা তুলে ধরেন। বিশ্লেষকেরা এ ফলকে গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশটিতে এ ফলকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি এবং কত আসনে কে জিতল, তা চূড়ান্ত ফলেই নিশ্চিত হবে।