বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

নির্বাচন বর্জন করলে জাকসুতে আবার ৩৩ বছরের জটলা তৈরি হবে

নির্বাচন বর্জন করলে জাকসুতে আবার ৩৩ বছরের জটলা তৈরি হবে

শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে প্রশ্নবিদ্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার স্বার্থে আমরা মনে করি, খারাপ নির্বাচন হলেও জাকসু থাকা, জাকসু না থাকার চেয়ে ভালো।

শুক্রবার রাত দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেল শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল।

 

এর আগে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত প্যানেল ঐক্য ফোরামের জিএস প্রার্থী আবু তৌহিদ সিয়াম জানিয়েছেন, ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন বর্জন করছেন না তারা। 

তিনি বলেন প্রশাসন সবসময় নির্বাচন বানচালের চিন্তায় ছিলো। এবারের নির্বাচন বানচাল হলে জাকসুতে আবারও ৩৩ বছরের জটলা তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে যে পোলিং এজেন্ট যে থাকবে এটি গতকাল রাতে আমাদের জানানো হয়েছে। অবজারভার থাকবে না, প্রার্থীদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে কী না এমনটাও গতকাল রাতে জানানো হয়েছে। ডোপ টেস্ট, নির্বাচনের ২/৩ দিন আগে একটা প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর প্রার্থিতা চলে যাওয়া এসব আমাদের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে, অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। এই নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তারা চেয়েছে শিক্ষার্থীরা এসব দেখে যাতে নির্বাচন বানচালের জায়গায় যায়।

তিনি জানান, ৩৩ বছরের নো জাকসুর চেয়ে একটি ব্যাড ইলেকশন ভালো।এর মাধ্যমে অন্তত গণতান্ত্রিক ধারার প্রচলনটা হোক। যাতে এই শুরু আমরা করেছি এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল চাই, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন যে ভুলগুলো করেছে সেগুলোও আমরা তুলে ধরেছি। যে সাড়ে ৭ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছে তাদেরকে আমরা সম্মান জানাই। ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি না। আমরা এই নির্বাচনের প্রত্যেকটি ভুলের কথা বলছি যার দায়ভার নির্বাচন কমিশনের। যারা নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের দায়ভারও নির্বাচন কমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তারা নির্বাচন বর্জন করেছে এটিও একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও সমর্থন রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না বা পুনর্নির্বাচনের দাবি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের পুরো সময় ইচ্ছা ছিল জাকসু বানচাল করা। এরপরও জাকসু শুরু হলো তাকে সাধুবাধ জানাই। জাকসু বর্জন করলে নির্বাচন কমিশন আবারও জটলা আনবে যার জন্য ৩৩ বছর আবারও অপেক্ষা করতে হবে। আর নির্বাচনের যে ফলই আসুক তাদের প্যানেল তা মেনে নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।