টানা বৃষ্টিতে ব্যাংককের তিন জেলা বন্যাদুর্গতি ঘোষণা, যান চলাচল ব্যাহত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা টানা ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে, এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
টানা ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন থমকে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে কর্তৃপক্ষ নগরীর নং চোক, সুয়ান লুয়াং ও খান না ইয়াও—এই তিনটি জেলাকে বন্যাদুর্যোগকবলিত ঘোষণা করেছে। এসব জেলার ১৩টি উপ-জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাংককের গভর্নর চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় মালামাল ও যানবাহন নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং পূর্বাঞ্চলের খালগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
থাই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্যাংককের ওপর সক্রিয় একটি নিম্নচাপ অবস্থান করায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গভর্নর চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট আরও বলেন, এই নিম্নচাপটি বিপুল জলীয়বাষ্প টেনে আনায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের খালগুলোতে পানির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ) পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাম্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালাচ্ছে। তারা খাল থেকে পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জলাধারও ব্যবহার করছে। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি শয্যাশায়ী রোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শনিবার সকালে বিএমএ’র বন্যা প্রতিরোধ কেন্দ্র কয়েকটি সড়কে পানি বেড়ে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। সুখুমভিত ৬৩ নম্বর সড়ক, রামখামহেং রোড, লাত ক্রাবাং রোড, সেনা নিকোম ও চ্যাং ওয়াথানা রোডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং গণপরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প পথ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
থাইল্যান্ডের সড়ক কর্তৃপক্ষও ব্যাংককে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা একাধিক স্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে। লাত প্রাওসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। রাজধানীর সুখুমভিত, রামখামহেং, ব্যাং না-ট্রাট, নাওয়ামিন ও চ্যাং ওয়াথানার মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে, যা কিছু এলাকায় যানবাহন চলাচল সীমিত করেছে।
তবে গভর্নর চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানিয়েছেন, চাও ফ্রায়া নদীর তীরবর্তী প্রধান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর বড় অংশ এসব বাঁধের সুরক্ষায় রয়েছে এবং নদীর পানি ও বৃষ্টির পানি পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান ঝুঁকি তৈরি হয়েছে অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিয়ে।