শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চলনবিলে নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ: প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন, বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা মাটির উর্বরতা নিয়ে

পাবনা ও সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলে ৪০টির বেশি আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে; চিংড়ির খাবার হিসেবে এগুলো যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ঘেরে।

চলনবিলের জলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শামুক ও ঝিনুক এ অঞ্চলের নিম্নবিত্ত হাজারো মানুষের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হয়ে উঠেছে। কর্মহীন মানুষ আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নির্বিচারে এগুলো সংগ্রহ করায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলনবিলের ১৬টি নদী, ৩৯টি বিল ও ২২টি খাঁড়িসহ বিস্তীর্ণ জলাভূমি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেনাবেচার জন্য চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলায় ৪০টির বেশি আড়ত গড়ে উঠেছে। আড়তদাররা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতি বস্তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে কিনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা এসব শামুক-ঝিনুক বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন। চিংড়িসহ চাষ করা অন্য মাছ দ্রুত বাড়াতে কম খরচের খাদ্য হিসেবে শামুক-ঝিনুকের বিকল্প নেই, তাই এর চাহিদা বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে শামুক-ঝিনুক নিধনের ফলে এ অঞ্চলের মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। শামুক-ঝিনুক মরে গিয়ে এর মাংস ও খোলস পচে জমির মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশ তৈরি করে। এতে জমির উর্বরতা বাড়ে, ধানগাছের শিকড় মজবুত হয় এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ে।

একদিকে এ কাজ হাজারো পরিবারের আয়ের উৎস, অন্যদিকে অতি সংগ্রহে জলাভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।