বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২০তমবারের মতো পেছালো

২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক যুগেও অগ্রগতি নেই, হতাশ পরিবার ও সাংবাদিক সমাজ

সাগর-রুনি
ছবি: সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২০তমবারের মতো পেছালো। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালতে পিবিআই অতিরিক্ত এসপি মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। ওই দিন সকালেই রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত দায়িত্ব পান থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়, কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় পরও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে ব্যর্থ হয় ডিবি। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র‌্যাবের হাতে যায়।

তবে দীর্ঘদিনেও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২4 সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট নতুন করে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের বেঞ্চ র‌্যাবকে মামলার তদন্ত থেকে সরিয়ে দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কিন্তু তদন্তে এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মামলার আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান খান ও নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে আছেন।

দীর্ঘ ১৩ বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আদালতে নতুন তারিখ ঘোষণার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—“আর কতবার তদন্ত পেছাবে, আর কত বছর লাগবে সাগর-রুনি হত্যার ন্যায়বিচার পেতে?”