বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

গোদাগাড়ীর মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে ১০৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে এইচএসসিতে পাস মাত্র ৮ জন

৫৫ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও কলেজটির পাসের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ; স্থানীয়রা তদন্ত চান।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জেনারেল শাখা থেকে ১০৭ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র আটজন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কলেজটিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফলাফল নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতের এই চিত্র সামনে আসে। কলেজের কলেজ শাখায় বর্তমানে ৫৫ জন শিক্ষক ও ১১ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে মাটিকাটা ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুর রহমান জানান, এ বছর কলেজটি থেকে ১০৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের একাংশ রাজনীতিতে বেশি ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হয়েছে এবং সিলেবাস সময়মতো শেষ হয়নি। তাঁদের দাবি, অব্যবস্থাপনার কারণে কলেজের পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় যুবক আবু তাহের ফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তবু ৫৫ জন শিক্ষকের কলেজে মাত্র আটজন পাস করেছেন, যা দুঃখজনক। তিনি প্রশাসক বা শিক্ষকদের গাফিলতি আছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামিমা নার্গীস বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই অনিয়মিত। তাঁদের অনেকে পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা বা শ্রমিকের কাজ করেন। একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন ক্লাস করলেও দ্বাদশে উঠে ২০ শতাংশও ক্লাসে আসেন না এবং অভিভাবকদের জানিয়েও লাভ হয় না। এ কারণেই ফল এত খারাপ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আগামীতে ফল ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।