ভারতের পদুচেরি ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আঘাত হানার পর ঝড়টির গতি আরও কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে যে পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আগে বলা হয়েছিল, তা না-ও হতে পারে। রাজধানীতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার ভোর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে বুধবার ভোর চারটার মধ্যেই এটি স্থলভাগে আঘাত হানা শুরু করে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে। এর অগ্রভাগের প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় তুমুল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতেও ভোরে ভারতের উপকূলে অর্ণবের আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার সকালে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি সমতলে ওঠার পরই এর গতি কমতে শুরু করেছে। এখন এটি খুব ধীরে উপকূল পার হচ্ছে এবং অতিক্রম শেষ করতে অনেকটা সময় লাগতে পারে। আগে আবহাওয়াবিদেরা বাংলাদেশের উপকূল ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কথা বলেছিলেন; ইতিমধ্যে উপকূলের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে যে পরিমাণ বৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা না-ও হতে পারে। তিনি জানান, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে এবং এর প্রভাবে খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।
সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে, ফলে প্রচণ্ড গরম পড়ে—এবারও তা-ই হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু—এ প্রশ্নে আবহাওয়াবিদ জানান, বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।