রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

ব্যাংকে চাহিদার এক-চতুর্থাংশ ঋণ মিলছে, আবার ১০ ব্যাংকে জমে আছে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা ছয় মাস ৫ শতাংশের নিচে; উদ্যোক্তারা চাহিদামতো ঋণ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ কমাচ্ছে।

ব্যবসা চালানোর জন্য ২০ লাখ টাকার ঋণ চাইলে ব্যাংক দিতে চাইছে ৪-৫ লাখ—দেশের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এখন এমন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন। একই সময়ে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য জমছে, আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৭২ শতাংশ, এপ্রিলেও একই। মে মাসে তা সামান্য বেড়ে ৪.৯৮ শতাংশ হলেও জুন-জুলাইয়ে আবার কমে; আগস্টে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪.৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় মাস ধরে এটি ৫ শতাংশের নিচে। তুলনায় ২০১০-১১ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫.৮৪ শতাংশ, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯.৮৪ ও ৬.৪৯ শতাংশ।

এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলেন, তাঁরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেও আবেদন করা ঋণের চার ভাগের এক ভাগ দিতে চাইছে ব্যাংক; আরেকটি ব্যাংকে সরবরাহ চেইন ঋণ চেয়ে তিন মাসেও পাননি বলে তিনি জানান। চট্টগ্রামের একটি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ২০ কোটি টাকার ঋণ চেয়েছিল; ব্যাংক তিন-চার কোটি টাকা দিতে চেয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এখন জামানতের ৭০-৮০ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো আগ্রহী নয়।

বন্ধ কারখানা চালুর জন্য মে মাসে ঘোষিত ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই অংশ থেকে বিতরণ হয়েছে ৫৬১ কোটি টাকা; পুরো প্যাকেজ থেকে ছাড় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। নিট পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাঁর জানামতে এখন পর্যন্ত নিট খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে ঋণ পায়নি।

অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে অর্থ জমছে। আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যার ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা ছিল ১০টি ব্যাংকের কাছে। শীর্ষে সোনালী ব্যাংক (৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা), এরপর পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংক। অতিরিক্ত তারল্যের চাপে ব্যাংকগুলো গত কয়েক মাসে আমানতের সুদহার কমিয়েছে; এক বছর মেয়াদি আমানতে সুদ জুলাইয়ে ৯-১০.১৫ শতাংশ থাকলেও সম্প্রতি তা সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে নেমেছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, উদ্বৃত্ত তারল্য ট্রেজারি বিল-বন্ডসহ নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২১ মাস পর নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করেছে, যাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ে।