বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

আসামে ১১০০ পরিবার উচ্ছেদ: বাঙালি মুসলিমদের ঘর ভাঙার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

আসামের তিন জেলায় উচ্ছেদ অভিযানকে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি নিপীড়নের ধারাবাহিকতা বলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক; প্রশাসনের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।

ভারতের আসাম রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার ১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ঘরবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার কয়েকটি ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো। তাঁর দাবি, পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই পরিবারগুলোকে গৃহহীন করা হয়েছে এবং তাদের কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

এ অভিযানকে তিনি ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা টানেন। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধীনে ভারত মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ সংখ্যালঘু এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মুসলিমরাও ভারতীয়।’

খেলাফত আন্দোলনের আমিরের নিন্দা

একই ঘটনায় বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে এভাবে—মসজিদ ও বাড়িঘর ভেঙে ভারত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ করছে। বিবৃতিতে তিনি একে ‘চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

আসামে কী ঘটেছে

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল জানায়, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর দুই দিনের অভিযানে আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়, যাদের বেশির ভাগ বাঙালি মুসলিম। প্রথম দিনে তিন জেলায় উচ্ছেদ হয় ৫৪৭টি পরিবার—নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, গোলাঘাটে ৫৯টি ও হোজাইয়ে ১৫২টি। দ্বিতীয় দিনে নগাঁওয়ের লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনে ৬০০টির বেশি পরিবারের ঘর ভাঙা হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য, এসব পরিবার সংরক্ষিত বনের জমি দখল করে ছিল। আসাম ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, গোলাঘাটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম দফা উচ্ছেদের পর বাকি ৫৯টি পরিবার আদালত থেকে সাময়িক প্রতিকার পেয়েছিল; পরে সরকারের পক্ষে রায় আসায় অভিযান আবার শুরু হয়। হোজাইয়ের বিষয়ে দক্ষিণ নগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা নয়নজ্যোতি রাজবংশী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন, নোটিশ দেওয়া ও দাবি যাচাইয়ের পরই সর্বশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে বাসিন্দাদের অনেকে নিজেদের দখলদার মানতে নারাজ। লুটুমারির বাসিন্দা আবদুল নূর স্ক্রলকে বলেন, ১৯৭৪ সালে সরকারই ভূমিহীন পরিবারগুলোকে সেখানে বসিয়েছিল, আর গৌহাটি হাইকোর্টে গিয়েও তাঁরা প্রতিকার পাননি। ১০টির বেশি মসজিদ ভাঙার তথ্যটিও এসেছে তাঁর বরাতে। স্ক্রলের সংকলিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামে বিজেপি শাসনের গত ১০ বছরে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম।