বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর ঢোপকল অস্তিত্ব সংকটে: ঐতিহ্যবাহী পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতি

ঢোপকলের সংখ্যা হ্রাস এবং অবহেলায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

রাজশাহীর ঢোপকল অস্তিত্ব সংকটে: ঐতিহ্যবাহী পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতি
রাজশাহীর ঢোপকল, যা একসময় নগরজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রাজশাহীতে ১৯৩৭ সালে ঢোপকলের মাধ্যমে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল। তৎকালীন সময় এই ব্যবস্থা নগরজীবনের জন্য অনেকটাই সহজতা এনে দিয়েছিল এবং পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব সৃষ্টি করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরায়ণ ও অবহেলার কারণে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় রাজশাহী নগরজুড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ঢোপকল ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচটি সচল অবস্থায় রয়েছে। এগুলি নগরীর বিভিন্ন স্থানে কোনোরকমে টিকে থাকলেও তাদের অবস্থা বেশ নাজুক। বিশ শতকের ত্রিশের দশকে নগরীতে নিরাপদ পানির সংকট দূর করতে এসব ঢোপকল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালের আগস্ট মাসে রাজশাহী ওয়াটার ওয়ার্কস নামে একটি পানি শোধন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যার নামকরণ করা হয় মহারানী হেমন্ত কুমারীর অনুদানের স্বীকৃতিতে। এই পানি শোধনাগার থেকে ঢোপকলের মাধ্যমে নগরবাসী সহজেই পানি সংগ্রহ করতে পারত। তবে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা চালু হলে ঢোপকলের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নগর উন্নয়নকাজ এবং দখল-অবহেলার কারণেই এখন ঢোপকলগুলি হারিয়ে যাওয়ার পথে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মিশু জানান যে, ঢোপকলের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং সংরক্ষণের কাজ চলছে। এস এম তাহমিদ হাসান ঢোপকলকে রাজশাহীর জলসভ্যতা, প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা শুধুমাত্র পুরোনো পানির উৎস নয়। অন্যদিকে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান জানান যে, ছোট আকারের স্থাপনা হওয়ায় ঢোপকলগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে গেজেটভুক্তিতে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে, সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজনে কিছু ঢোপকল স্থানান্তর করা হয়েছে বলে মো. মাহফুজুর রহমান রিটন জানান। এটি রাজশাহীর ঐতিহ্য ও নগর উন্নয়ন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।