ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘শুধু সময়ের ব্যাপার’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তুরস্কের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের সংসদ নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের একটি ব্যবসাবিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
টিআরটির বরাতে নেতানিয়াহু বলেন, “যদি আপনারা মনে করেন, আমি দুই দফায় যে কয়েক হাজার কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা নিশ্চিত করেছিলাম তা চলতেই থাকবে, তাহলে প্রস্তুত হোন এবং মেনে নিন যে তা হবে না, কারণ আমেরিকা বদলে গেছে। এটি শেষ হবে। এটি শুধু সময়ের ব্যাপার।” তিনি সহায়তা বন্ধের কোনো তারিখ দেননি; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়নি। তিনি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির কথা বলেছেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞাসহ নানা পদক্ষেপ আসতে পারে, তাই এমন অর্থনীতি গড়তে হবে যা তা এড়িয়ে চলতে পারে। ব্লকচেইন প্রযুক্তি বিকল্প হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি একটি উপায় এবং এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছেন। কোন দেশ নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি। টিআরটি লিখেছে, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য এসেছে।
বিরোধী জোটের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ায়ের লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করলেন—তাঁর সরকার পুনর্নির্বাচিত হলে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হবে এবং অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়বে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ায়ের গোলান মন্তব্যটিকে বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন বলেছেন এবং নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও দেরিকে ছাড়া নতুন সরকারের আহ্বান জানিয়েছেন।
টিআরটি জানায়, ২০১৬ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ১০ বছরে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পায়, যার মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। টিআরটি আরও বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখনো আছে, তবে বিশেষ করে তরুণ মার্কিনিদের মধ্যে সমালোচনা বাড়ছে। প্রতিবেদনটি টিআরটির ভাষ্য, যার কিছু বিশেষণ ও অভিযোগ তাদেরই। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র দ্বিতীয় সূত্রের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি; তাই সংবাদটি কেবল টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাতে দেওয়া হলো.