শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে বন্ধ প্রায় ৫০ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চার সার কারখানা; সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণে ৯৮৩ থেকে ৫৪৭ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে সরবরাহ; পেট্রোবাংলা বলছে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন বন্ধ।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে চাপ কমে গেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটে প্রায় অর্ধশত বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, ফলে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন থেমে গেছে। চারটি সার কারখানাও শাটডাউনে আছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এ সময় সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে বলে আগেই জানানো হয়েছিল।

এত দিন এক্সিলারেট ও সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৯৮৩ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫৪৭ মিলিয়ন ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, ৩ হাজার ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট জোগান সক্ষমতার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ২ হাজার ১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি; অর্থাৎ হঠাৎ প্রায় সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।

কোন কেন্দ্র ও কারখানা বন্ধ

বন্ধ থাকা বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশালের ১ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র, ৫৮৩ মেগাওয়াটের সামিট মেঘনাঘাট-২, ৪৫০ মেগাওয়াটের মেঘনাঘাট আইপিপি, সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট, আশুগঞ্জের ৫০০ ও ২২৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্র, রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২১০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট এবং ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-২। সার কারখানার মধ্যে শাটডাউনে আছে যমুনা সার কারখানা, আশুগঞ্জ সার কারখানা, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল)।

চট্টগ্রামে তীব্র সংকট

চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি এলএনজিনির্ভর হওয়ায় সেখানে সংকট বেশি। শহরটিতে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সরবরাহ হয়েছে ২৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে; রপ্তানিমুখী পোশাক ও ডায়িং কারখানা বেকায়দায় পড়েছে। রান্নার চুলাতেও গ্যাসের চাপ কমেছে।

সিএনজি স্টেশনগুলোতে শুক্রবারও সকাল থেকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এক সিএনজিচালক জানান, অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ থাকায় তাঁদের এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটতে হচ্ছে; এ সুযোগে সিএনজি অটোরিকশা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় এলএনজি সরবরাহে অনিয়ম দেখা দিয়েছিল।