শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

পাঁচ দশকে জিডিপিতে কৃষির অংশ ৪৯.৮ থেকে ১২ শতাংশের কাছাকাছি, শিল্পের অংশ ৯ থেকে ৩৪ শতাংশ: এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিবেদন

‘বাংলাদেশের ব্যাল্যান্স শিট (১৯৭২-২০২৫)’ প্রতিবেদনে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি কর-জিডিপি অনুপাত ২০২৫ সালে ৬.৬ শতাংশে নামার তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়েনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশের ব্যাল্যান্স শিট (১৯৭২-২০২৫): পাঁচ দশকে অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান ছিল ৪৯.৮ শতাংশ। ১৯৮০ সালে তা কমে ৪৪.২ শতাংশে, ২০০০ সালে ২৪.১ শতাংশে এবং ২০২০ সালে ১২.৮ শতাংশে নামে। ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে কৃষির অবদান দেখানো হয়েছে ১১.৪২ শতাংশ। ১৯৭২ সালের ৪৯.৮ শতাংশের তুলনায় ২০২০ সালের ১২.৮ শতাংশ আপেক্ষিকভাবে প্রায় ৭৪ শতাংশ কম।

একই সময়ে বেড়েছে শিল্প খাতের অংশ। ১৯৭২ সালে জিডিপিতে শিল্পের অবদান ছিল ৯ শতাংশ; ২০০০ সালে তা ২৫.২ শতাংশে এবং ২০২৫ সালে ৩৪.০৩ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদন শিল্পের অংশ ১৯৭২ সালের ৩.১ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ২১.৮৯ শতাংশে উঠেছে।

এশিয়াটিক সোসাইটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জিডিপিতে কৃষির অংশ কমলেও খাতটির গুরুত্ব কমেনি। দেশের মোট ভূমির বড় অংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখা ও কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘুরছে। ২০২৫ সালের জন্য এই অনুপাত দেখানো হয়েছে ৬.৬ শতাংশ।