চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের চাষ করা হয়েছে। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামে উদ্যোক্তা গিয়াস উদ্দিন সোহেল এ ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় নতুন এ জাতের চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে জানা গেছে, নতুন এ ধানের চাষাবাদ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কালো ধানে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বাজারে এ চালের চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি।
গিয়াস উদ্দিন সোহেল জানান, এবারই প্রথম তিনি ব্ল্যাক রাইসের আবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রচলিত জাতের তুলনায় এ ধানের ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তবে উৎপাদন খরচ প্রচলিত ধানের মতোই। ভালো ফলন পাওয়ায় উৎপাদিত সব ধান চাল হিসেবে বিক্রি না করে আগামী মৌসুমে চাষের জন্য বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করবেন বলে তিনি জানান।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো কালো ধানের চাষ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার একটি উদ্যোগ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করছে। ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়নের পর এ জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কালো চালের চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে জাতটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।