শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে দলের সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল সহযোগীদের নিয়ে ওই চার নেতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান।
উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানায়, ওই চার নেতা ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যবসা নিয়ে কিছুদিন ধরে সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। সূত্রগুলোর ভাষ্য, সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার সন্ধ্যার পর চার নেতাকে বৈশাখীপাড়ায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সালাউদ্দিনের ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাঁদের ওপর হামলা চালান। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন ছৈয়াল মুঠোফোনে বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নোমান চোকদার ও মাসুদ খান তাঁর কাছে ঠিকাদারি ও জমি কেনাবেচার ব্যবসার প্রস্তাব নিয়ে আসেন এবং বিনিয়োগের জন্য টাকা চান। তাঁর দাবি, গত চার মাসে দুই দফায় তিনি তাঁদের ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছেন, কিন্তু মুনাফার ভাগ বা আসল টাকা ফেরত পাননি। শনিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা টালবাহানা করায় তর্কবিতর্ক হয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কিছু লোকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তিনি থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নোমান চোকদার বলেন, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁদের ডেকে নেন এবং সেখানে পৌঁছানোর পর হামলা করা হয়। সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। মাসুদ খানের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে সালাউদ্দিন তাঁদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন, কেন টাকা দিতে হবে জানতে চাইলেই মারধর শুরু হয় এবং হামলাকারীদের একজন বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, আহত চারজনকে রাতেই ভর্তি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। এক্স-রেতে তাজুল নামের একজনের বাঁ পায়ের হাড় ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি; অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।