সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

সাত দশকেও সংকট কাটেনি পাবনা মানসিক হাসপাতালের: ৫০০ শয্যায় ২২ চিকিৎসক, রোগীপ্রতি দৈনিক খাবার বরাদ্দ ১৭৫ টাকা; ১,৩৬৫ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদিত

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত এ হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মীর পদ শূন্য, ইইজি ও ইসিটি যন্ত্র বিকল; পরিচালক বলছেন, এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

১৯৫৭ সালে পাবনার হেমায়েতপুরে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম ও একমাত্র বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে সাত দশক পরও অবকাঠামো ও জনবলের সংকট কাটেনি। চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ৫০০ শয্যার হলেও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও জনবল কাঠামো এখনো আড়াই দশক আগের ২৫০ শয্যার ভিত্তিতেই চলছে। চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩১টি, কর্মরত ২২ জন। তুলনায় ঢাকার ২০০ শয্যার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ৫০ জন চিকিৎসক আছেন। তিনটি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট পদের একটিতেও জনবল নেই। চতুর্থ শ্রেণির ১৭০টি পদের ১১০টি শূন্য।

দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে ইইজি ও ইলেকট্রোকনভালসিভ থেরাপির (ইসিটি) যন্ত্র। বহির্বিভাগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের শহরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। হাসপাতালকর্মীদের ভাষ্য, রোগীদের চার বেলার খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ মাত্র ১৭৫ টাকা, যার ১৮ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। একসময় রোগীদের তাঁত, বেত, কাঠ ও দর্জির কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো; এখন তা বন্ধ, প্রশিক্ষণ ভবনে থাকছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। এ ছাড়া নিরাপত্তারক্ষীদের ম্যানেজ করে ভেতরে ঢুকে কেউ কেউ রোগীদের উসকানি দিয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সামিনা আক্তার বলেন, সামাজিক সচেতনতার অভাবে অধিকাংশ রোগী সময়মতো চিকিৎসা পান না; অনেক পরিবার প্রথমে কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেয়। কনসালট্যান্ট ডা. একেএম শফিউল আযম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্ব সনদ বাধ্যতামূলক করার আগে অনেকে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে রোগী ভর্তি রেখে চলে যেতেন; ১৯৯৫ সালে ভর্তি হওয়া এক রোগী এ বছরও পরিবারের দেখা পাননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম ফারুক সরকার বলেন, আধুনিকায়নের পাশাপাশি মানসিক রোগ নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলানো জরুরি।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট নির্মাণে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর আওতায় স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম, গবেষণা, আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও টেলিমেডিসিন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।