গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষকের জামিন আদালত নামঞ্জুর করেছেন। এর মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার পরদিন ওই শিক্ষক মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে শিশুটির পরিবারের বাসার ভবনে গিয়েছিলেন। শিশুটির পরিবার বলছে, অভিযোগ তুলে নিতে তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে আছে।
পরিবারের সদস্য ও ভবনের সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের একটি ব্যাগ হাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ভবনে ঢোকেন। নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি লিফটে ওঠেন। ফুটেজের একটি অংশে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা যায়। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি; প্রায় ১০ মিনিট পর একই ব্যাগ হাতে তিনি ভবন থেকে বেরিয়ে যান। শিশুটির মা জানান, ১২টা ৪৫ মিনিটে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত শিক্ষক বার্তা পাঠান, তাতে লেখা ছিল—দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, দেখা করতে চান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসায় শিশুটিকে নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ২১ অক্টোবর শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন; ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। শিশুটির পরিবারের করা মামলায় পুলিশ একই দিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। রোববার তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল; আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে; তদন্ত চলছে।
শিশুটির বাবা সোমবার বিকেলে বলেন, তাঁদের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অভিযোগ তুলে নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও সরিয়ে ফেলতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘সারাক্ষণ একটা আতঙ্কের মধ্যে কাটছে।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর এই প্রতিবাদ আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়, লেবাসধারীদের বিরুদ্ধে। হুমকির বিষয়ে ওসি বলেন, দুই পক্ষই থানায় মৌখিকভাবে হুমকির অভিযোগ করেছে, তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।