বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন ৪০ ঘণ্টা পরও নেভেনি, নমুনা নিয়েছে বাপেক্স; ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

গভীর নলকূপ বসানোর সময় গ্যাস বেরিয়ে আগুন ধরার ঘটনায় বুধবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা; এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ বসানোর সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নমুনা পরীক্ষার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস বেরোতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করলেও ভূগর্ভ থেকে অনবরত গ্যাস বেরোতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। তিনি বলেন, এখন গ্যাস নির্গমন বা চাপ জোর করে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ থাকা সরবরাহ বুধবার রাত পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে সরবরাহ চালুর কাজ চলছে এবং বুধবার রাতেই তা স্বাভাবিক হতে পারে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারিতে রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন; পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এর আগে ঘটনার প্রথম ১৪ ঘণ্টায়ও আগুন নেভেনি বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল।