শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

অভয়নগরে ভবদহ অঞ্চলের পাঁচ সড়কের ১ হাজার ৫৪ গাছ কাটার প্রক্রিয়া, ২৩টি ইতিমধ্যে কাটা

৩০ বছরের বেশি পুরোনো গাছগুলো বিক্রির টাকায় সামাজিক বনায়নের ৫২ নারী সদস্যের পাওনা মেটানো হবে; জলাবদ্ধ এলাকায় সড়ক ঝুঁকির আশঙ্কা স্থানীয়দের।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার জলাবদ্ধ ভবদহ অঞ্চলে পাঁচটি সড়কের পাশের ১ হাজার ৫৪টি গাছ কাটার প্রক্রিয়া চলছে। নওয়াপাড়া পৌরসভা অংশের ২৭৫টি গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বাকি ৭৭৯টির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। অনুমোদিত ২৭৫টির মধ্যে ২৩টি গাছ ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। একসঙ্গে এত গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যশোর বন বিভাগ ও একটি বেসরকারি সংস্থার সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১ জুলাই নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট পার্টনার এবং সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের ৫২ জন নারী সদস্যের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদি একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় নওয়াপাড়া-সুন্দলীসহ পাঁচটি সড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশের দুই পাশে ২৬ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়। চারার যত্নের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্পের নারী সদস্যরা।

চুক্তি অনুযায়ী গাছ বিক্রির টাকার ২০ শতাংশ পাবে ইউনিয়ন পরিষদ, ২০ শতাংশ বেসরকারি সংস্থা এবং ৬০ শতাংশ পাবেন সামাজিক বনায়নের সদস্যরা। চুক্তির মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হয়েছে। গাছগুলোর বয়স এখন ৩০ বছরের বেশি। নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে নওয়াপাড়া পৌরসভা ও সুন্দলী ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে; ২৭৫টি গাছ পৌরসভা এলাকায় এবং বাকি ৭৭৯টি সুন্দলী ইউনিয়নে পড়েছে।

কাটার তালিকায় রয়েছে মেহগনি ৫৮৫টি, রেইনট্রি ৪৩৪টি, বাবলা ২৪টি, কড়ই ৫টি এবং শিশু ও ইপিলইপিল তিনটি করে। এ পর্যন্ত কাটা ২৩টি গাছের মধ্যে মেহগনি দুটি, রেইনট্রি ২০টি ও ইপিলইপিল একটি; পৌরসভার পানিনিষ্কাশনের নালা নির্মাণের জন্য এগুলো কাটা হয়েছে।

অভয়নগরের সুন্দলী গ্রামের কলেজশিক্ষক কানু বিশ্বাস বলেন, গাছগুলো ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চলের। বর্ষা মৌসুমে এসব গাছ পানির চাপ থেকে সড়ক রক্ষা করে; কেটে ফেললে পানির তোড়ে সড়ক ভেঙে যেতে পারে। তিনি গাছ না কেটে সংরক্ষণের দাবি জানান। ১ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছের গায়ে ছাল তুলে লালকালিতে ক্রমিক নম্বর লেখা রয়েছে।