রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

গত বছরের লোকসান ভুলে ক্ষেতলালে আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত কৃষক, বীজের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া আগাম আলু চাষে কৃষকেরা ভালো দামের আশা করলেও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে নতুন করে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু রোপণ শুরু হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, আমন ধান ও অন্যান্য ফসল কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় তাঁরা আলু চাষ করছেন। বছরের এ সময়ে বাজারে আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। তাই আগাম জাতের আলু ভালো দামে বিক্রির সম্ভাবনা থাকে। এই আশায় প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে তাঁরা আগাম আলু লাগান। কিন্তু গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে বড় লোকসান গুনতে হয়েছিল।

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন কৃষকেরা। তাঁদের ভাষ্য, গত বছর যে বীজ ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা হয়েছিল, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সার সংগ্রহে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ও গোলাম মাওলাসহ অনেকে বলেন, গত বছরের লোকসান এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবু আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশায় তাঁরা মাঠে নেমেছেন।

আগাম আলু রোপণকে ঘিরে গ্রামীণ শ্রমবাজারেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে স্থানীয় শ্রমিকেরা সাময়িকভাবে কাজ পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আগাম জাতের এই আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যেই তোলা যায়, আর কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষ করলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবেন। কৃষকদের প্রত্যাশা, ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে।