বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাবি’তে থমথম অবস্থা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাবি’তে থমথম অবস্থা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল থেকেই একের পর এক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন কেন্দ্র ঘিরে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে ছাত্রশিবির মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েমের প্রবেশ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পোলিং এজেন্টদের চাপের মুখে তাকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে হলেও, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান টিএসসি কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়। এতে করে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য ভোট গণনা স্থগিত থাকে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবিদুল বলেন, ‘আমরা শুনেছি, শিবিরের প্রার্থীরা যেখানে গণনা পর্যবেক্ষণ করতে পারছে, আমরা কেন পারছি না? প্রশাসন কী করতে চাচ্ছে, সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।’

এদিকে কার্জন হল ও উদয়ন স্কুল কেন্দ্রেও এলইডি লাইট বন্ধ থাকার কারণে গণনায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটে, যদিও কিছুক্ষণ পর তা স্বাভাবিক হয়।

 

ভোট গণনা চলাকালীন সময়ে সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং প্রশাসন একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছে।

রাত ৮টার দিকে শামসুন্নাহার হল এবং ইউল্যাব কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও মিছিল করেন ছাত্রদলের প্রার্থীরা। এ সময় তারা ‘প্রশাসন ভোট চোর’ স্লোগান দেন। একই সময়ে টিএসসি এলাকাতেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাগছাস সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের ও জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাম সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসুও।

ফলাফল ঘোষণার আগেই ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর এলাকায় বিএনপি, জামায়াত এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, ‘ভোটের ফলাফল ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

 

ফলাফল ঘোষণার প্রহর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এখন কঠোর নজরদারিতে। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।