রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ: শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০, ১৫ যান ভাঙচুর

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রা এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।

তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের একটি গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও যোগ দেন। ময়লার বস্তা ফেলে সড়ক বন্ধ করে দেওয়ায় মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

শিল্প পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবু বিভিন্ন কারখানায় অসন্তোষ অব্যাহত আছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, বিক্ষোভের কারণে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে লাঠিপেটা শুরু করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। শ্রমিকেরা সরে গেলে সাড়ে সাতটার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ মিলিয়ে ৩০ জন আহত হয়েছেন। ডিভাইন টেক্সটাইলের শ্রমিক কবির হোসেন দাবি করেন, লাঠিপেটা ও টিয়ার শেলে তাঁদের ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন এবং রোববার সকাল থেকে আবার আন্দোলন শুরু হবে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।