রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

টঙ্গীতে নির্মাণাধীন ভবনে ইয়াবা তৈরির কারখানা, দৈনিক ৫০ লাখ বড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা; গ্রেপ্তার ১

ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম দেখে প্রক্রিয়া শেখার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার যুবক; কারখানা চালুর আগেই অভিযান।

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ার চেষ্টার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার আগেই অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেকে অভিযান চালানো হয়। টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী–সংলগ্ন চারতলা নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় ইয়াবা তৈরির ল্যাব ও সরঞ্জাম বসানোর কাজ চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে বাড়িটির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, জব্দ করা আলামতের মধ্যে আছে তরল ও গুঁড়া রাসায়নিক পদার্থ, কাঁচামাল, কাচের বোতল, মাপার যন্ত্র, ফিল্টারেশন ও ভ্যাকুয়াম পাম্প, হিটিং সেটআপ ও ল্যাবরেটরির নানা সরঞ্জাম। এ ছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিকের নাম ও পরিমাপ লেখা একটি খাতা এবং ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানিয়েছেন, তিনি কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভোকেশনাল (অটোমোবাইল) এসএসসি পাস করেছেন। প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজেই ইয়াবা তৈরির প্রক্রিয়া শেখার চেষ্টা করেন। টঙ্গী, গাজীপুর ও ঢাকায় চাহিদা বেশি থাকায় অধিক মুনাফার আশায় কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৫০ লাখ এবং পরে এক কোটি বড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। স্থানীয় ক্রেতাদের নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা শুরু করলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে ফেরার পর বাপ্পি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ওসি বলেন, কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারত। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে এবং বাপ্পিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর কেউ জড়িত আছে কি না, এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।